নাসিরনগরে ভারীবৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে শত শত একর জমির পাকা ধান,দিশেহারা কৃষকরা
সুজিত কুমার চক্রবর্তী ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টাফ রিপোর্টারঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় ভারীবৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে শত শত একর জমির পাকা ধান।উজান থেকে নেমে আসা পানি ও টানা তিনদিনের বৃষ্টিতে ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার বিভিন্ন হাওরের প্রায় শত শত একর জমির পাকা বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে।

ফলে হাওরজুড়ে কৃষকদের মধ্যে হাহাকার দেখা দিয়েছে। নাসিরনগর উপজেলা সদর ইউনিয়ন, চাতলপাড়, ভলাকুট, গোয়ালনগর, বুড়িশ্বর, ফান্দাউক, কুন্ডা, গোকর্ণ, পূর্বভাগ, হরিপূরসহ সকল ইউনিয়নে নিচু এলাকায় পাকা, আধাপাকা ধান তলিয়ে গেছে। ধান কাটার জন্য দিনমজুর পাওয়া যাচ্ছে না। দিনমজুর যা পাওয়া যায় তাদের জনপ্রতি ১০০০/১২০০ টাকা দিয়েও ধান সংগ্রহ করতে পারচ্ছে না। নাসিরনগর সদর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের মোঃ ফুল মিয়া বলেন, আমি ১৪ খানি (৪ বিঘা) জমিতে বোরো ধান করেছি। ৭খানি ধান কেটেছি কিন্তু অতিরিক্ত বৃষ্টি কারণে ধান সংগ্রহ করতে পারছি না, সেইগুলো ধানই নষ্ট হয়ে গেছে বাকী জমির ধান পানির নিচে রয়েছে। এ বছর ছেলে মেয়েদের নিয়ে কি খামু! নাসিরনগর সদরের মোঃ মিন্টু মিয়া ও আশুরাইল গ্রামের কৃষক জালাল উদ্দিন জানান, মেদির হাওরে ১৫ বিঘা জমিতে বোরো ধান আবাদ করেছে। মাত্র ৪ বিঘা জমির ফসল তুলতে পেরেছে।তিন/ চার দিনের টানা বৃষ্টিতে সব জমি তলিয়ে গেছে।তারা জানান, অনেকধারদেনা করে জমি আবাদ করেছি এখন সারাবছর কীভাবে চলব?
মোঃ জাকির হোসেন, পরিমল বিশ্বাস, স্বপন সরকার জানান, মেদীর হাওরের অধিকাংশ জমির ফসল তুলতে পারেননি কৃষকরা। শুরুতেই জলাবদ্ধতা, শ্রমিক সংকট ভুগতে হয়। টাকা দিয়ে শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। তিন চার দিনের অব্যাহত বৃষ্টিতে নিম্নাঞ্চলের সব জমি তলিয়ে গেছে। অতিবৃষ্টিতে উজানের পানিতে হাওরসহ উপজেলার বিভিন্ন হাওরে আধা-পাকা ধান ডুবে যাচ্ছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ ইমরান হোসাইন বলেন, নাসিরনগর উপজেলার বিভিন্ন হাওরের ৫০ ভাগ জমির ধান কাটা শেষ হয়েছে। অতিরিক্ত বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা ও শ্রমিক সংকটের কারণে বহু কৃষক ধান তুলতে পারছে না। এরই মধ্যে টানা বৃষ্টিতে ফসলের বেশ কিছু ক্ষতি হয়েছে। তবে এখনই ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ বলা যাচ্ছে না। নৌকা দিয়ে ধান তোলার চেষ্টা চলছে। এ বছর উপজেলায় ১৭ হাজার ৪৯৬ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ করা হয়েছে।।



