ইরানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৮৭
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় এখন পর্যন্ত ইরানে প্রায় ৭৮৭ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সংস্থাটি প্রাণহানির হালনাগাদ এ তথ্য প্রকাশ করে। তাদের দাবি, এই সংখ্যা আগের মানবিক ত্রাণ সংস্থাগুলোর হিসাবের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি।
ইরানি রেড ক্রিসেন্ট আরো জানায়, দেশজুড়ে অন্তত ৫০৪টি স্থানে মোট ১ হাজার ৩৯টি হামলার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে।

উদ্ধারকর্মীরা বিভিন্ন এলাকায় ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিতদের খোঁজে অভিযান চালাচ্ছেন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক ইরানের মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ জানিয়েছে যে, ১৭৬ জন শিশুসহ ৭৪২ জন বেসামরিক নাগরিক মারা গেছেন।
ইরানি পার্লামেন্টের স্বাস্থ্য কমিশনের সদস্য ফাতেমেহ মোহাম্মদবেগি সোমবার বলেছেন, ইরানের ৯টি হাসপাতালে হামলা হয়েছে। ইসরায়েল এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদেরকে লক্ষ্যবস্তু করেছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
তবে আইডিএফ দাবি করেছে যে, হাসপাতালকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়নি। যদিও ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্র উভয়কেই হাসপাতালে হামলা চালানোর জন্য অভিযুক্ত করেছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
অন্যদিকে, নরওয়েভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হেনগাঁও জানিয়েছে, সংঘাতের তৃতীয় দিনেই নিহতের সংখ্যা অন্তত ১ হাজার ৫০০ জনে পৌঁছায়। তাদের তথ্যমতে, নিহতদের মধ্যে প্রায় ২০০ বেসামরিক নাগরিক এবং ১ হাজার ৩০০ ইরানি বাহিনীর সদস্য।
তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে হতাহতের এ সংখ্যার বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত অব্যাহত থাকলে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা আরও নাজুক হয়ে উঠতে পারে।
এর আগে শনিবার সকালে ইরানে যৌথ হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। পরমাণু কর্মসূচি ইস্যুতে এই দুই দেশের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে ইরানের। যদিও তেহরান দাবি করছে, পরমাণু শক্তি অর্জন তাদের অধিকার এবং তারা তা শান্তিপূর্ণভাবে করছে।
এ ছাড়া ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিজেদের প্রতিরক্ষার জন্য।কিন্তু ওয়াশিংটন ও তেলআবিবের দাবি, ইরান পরমাণু শক্তি অর্জন করলে ‘বিশ্ব মানবতার জন্য হুমকি’ হয়ে দাঁড়াবে। তাই দেশটিকে রুখতে তারা হামলা চালিয়েছে।




