মনামিনা কৃষি খামারের প্রতিষ্ঠাতা মতিউর রহমান স্মরণে স্মরণসভা
মতিউর রহমান ছিলেন একজন পরোপকারী ও পরিবেশবাদী মানুষ। তিনি সবসময় অন্যের ভালো চাইতেন। তাঁর আদর্শ ও চিন্তা-চেতনাকে ধারণ করে সবুজ পৃথিবী গড়তে ও সমাজ উন্নয়নে আমাদের কাজ করতে হবে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি :“মতিউর রহমান ছিলেন একজন পরোপকারী ও পরিবেশবাদী মানুষ। তিনি সবসময় অন্যের ভালো চাইতেন। তাঁর আদর্শ ও চিন্তা-চেতনাকে ধারণ করে সবুজ পৃথিবী গড়তে ও সমাজ উন্নয়নে আমাদের কাজ করতে হবে।”
বৃক্ষরোপণে জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তি, মনামিনা কৃষি খামারের প্রতিষ্ঠাতা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রথম আলো বন্ধুসভার উপদেষ্টা মতিউর রহমানের স্মরণসভায় এ কথা বলেন বক্তারা। চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রথম আলো বন্ধুসভার উদ্যোগে শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের শহীদ সাটু হলের তৃতীয় তলায় প্রমিত কার্যালয়ে এ সভার আয়োজন করা হয়।

সভার শুরুতেই মতিউর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। এরপর সংগঠনের সভাপতি মাসরুফা খাতুনের সভাপতিত্বে মতিউর রহমানের স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য দেন রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় বাবুডাইং আদিবাসী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক কানাই চন্দ্র দাস, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার পাঠানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ফারুকা বেগম, শংকরবাটী পোল্লাডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনোয়ারা খাতুন, স্বাস্থ্য বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত ইপিআই কর্মকর্তা আমিরুল মোমেনিন জীবন, রহনপুর হোমিও মেডিকেল কলেজের প্রাক্তন প্রভাষক রাতুল মাহমুদ সজল, কৃষি উদ্যোক্তা মুনজের আলম মানিক, চাঁপাইনবাবগঞ্জ বন্ধুসভার উপদেষ্টা আজিজুর রহমান, জহিরুল ইসলাম, আমিনুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ বন্ধুসভার সাবেক সভাপতি নয়ন আহমেদ, বাবুডাইং আলোর পাঠশালার সিনিয়র শিক্ষক লুইশ মুর্মু, চাঁপাইনবাবগঞ্জ বন্ধুসভার সাবেক সভাপতি নাহিদুল হক, আরাফাত মিলেনিয়াম, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক রামিজ আহমেদ অন্তর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক আনোয়ার হোসেন। পরিবারের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন মতিউর রহমানের ছেলে নাহিজার আহম্মেদ নাহিদ ও মেয়ে উম্মে মুসলিমা মিতু। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ বন্ধুসভার অর্থ সম্পাদক ও বাবুডাইং আলোর পাঠশালার প্রধান শিক্ষক আলী উজ্জামান নূর।
এসময় বক্তারা মতিউর রহমানকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। বক্তারা বলেন, মতিউর রহমান ছিলেন একজন সাদা মনের মানুষ। তিনি সবসময় অন্যের ভালো নিয়ে ভাবতেন। পরিবেশ নিয়ে ভাবতেন। প্রায় প্রতি বছরই বাবুডাইং আলোর পাঠশালাসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মাঝে কমলা, মাল্টা, পেয়ারাসহ নানা জাতের গাছের চারা বিতরণ করতেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জের বরেন্দ্র অঞ্চলে প্রথম মাল্টা ও কমলা চাষে সাফল্য নিয়ে আসেন। চাষ করেন বিভিন্ন জাতের আমও। পেয়েছেন জাতীয় পর্যায়ে বৃক্ষরোপণের পুরস্কার। এছাড়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের পক্ষ থেকেও তাঁকে দেয়া হয়েছে পরিবেশ রক্ষায় নানা সম্মাননা স্মারক। তাঁর আদর্শ ও চিন্তা-চেতনাকে ধারণ করে সবুজ পৃথিবী গড়তে ও সমাজ উন্নয়নে কাজ করবে বলে বন্ধুরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
শেষে তাঁর আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করা হয়। দোয়া পরিচালনা করেন আজিজুর রহমান।




