তরমুজের হাসি হলো শোকের প্রতীক,লোহালিয়া নদী থেকে দুই চাষির লাশ উদ্ধার
মোঃ সজিব সরদার পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধিঃ পটুয়াখালীর লোহালিয়া নদীতে আবারও প্রমাণ হলো—নদীপথ যেন এখন মৃত্যুফাঁদ। বেপরোয়া গতির একটি যাত্রীবাহী লঞ্চের ধাক্কায় তরমুজভর্তি একটি ট্রলার ডুবে গিয়ে প্রাণ গেল দুই চাষির।

বুধবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে, যখন চারদিকে অন্ধকার আর নদীর বুকে নোঙর করে বিশ্রামে ছিলেন পরিশ্রান্ত কৃষকরা, ঠিক তখনই ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা একটি লঞ্চ সজোরে আঘাত হানে ট্রলারটিতে। মুহূর্তেই তছনছ হয়ে যায় সবকিছু। ঘুমন্ত ছয়জনের মধ্যে শুরু হয় প্রাণ বাঁচানোর মরিয়া চেষ্টা
চারজন কোনোভাবে সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও নিখোঁজ হন রেজাউল করিম ও নাসির উদ্দিন। দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টা উৎকণ্ঠার পর অবশেষে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পটুয়াখালী ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল নদী থেকে তাদের নিথর মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহত রেজাউল করিম রাঙ্গাবালী উপজেলার চল লক্ষ্মী গ্রামের বাসিন্দা। পরিবারের জীবিকার একমাত্র অবলম্বন ছিল তরমুজ চাষ। অপরদিকে নাসির উদ্দিন চরবেষ্টিন এলাকার আব্দুল ফকিরের ছেলে, তিনিও সংসারের হাল ধরতে যুক্ত ছিলেন এই শ্রমনির্ভর পেশায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিবছর তরমুজ মৌসুমে এই নদীপথ দিয়েই ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করেন কৃষকরা। কিন্তু লঞ্চের বেপরোয়া চলাচল ও প্রশাসনের নজরদারির অভাবে দুর্ঘটনা যেন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
পটুয়াখালী নদী ফায়ার স্টেশনের টিম লিডার মজিবর রহমান জানান, খবর পেয়ে দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালানো হয় এবং কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় নিখোঁজ দুজনের মরদেহ উদ্ধার সম্ভব হয়।
এদিকে, নদীর জলে ভাসতে থাকা লাল তরমুজ আর উল্টে থাকা ট্রলার যেন নিঃশব্দে জানিয়ে দিচ্ছে এক নির্মম সত্য—যে ফসল মানুষের ঘরে হাসি ফোটানোর কথা, সেই ফসলই আজ দুইটি পরিবারের জন্য হয়ে উঠেছে আজীবনের শোকের প্রতীক।




