দুমকীতে আত্মহত্যার আগে দায়ী করলেন ৬ জনকে
মোঃ সজিব সরদার পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকীতে কোমড়ে চিরকুট রেখে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন মাওলানা আবুল কালাম আজাদ খান (৫৫) নামে এক মাদ্রাসা শিক্ষক, সাবেক ইউপি সদস্য ও দলিল লিখক। মৃত্যুর আগে রেখে যাওয়া চার পৃষ্ঠার চিরকুটে ছয়জন ব্যক্তিকে দায়ী করার অভিযোগ উঠে এসেছে। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের নিজ বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আবুল কালাম আজাদ খান দক্ষিণ দুমকি ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক, ৫নং শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য এবং স্থানীয়ভাবে পরিচিত দলিল লিখক ছিলেন। তিনি ওই এলাকার প্রয়াত মোসলেম আলী খাঁনের ছেলে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বাড়ির সামনে রাস্তার পাশে একটি আমগাছের ডালে ঝুলন্ত অবস্থায় আবুল কালামের মরদেহ দেখতে পান এলাকাবাসী। পরে তারা জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শী রাব্বি খান ও বায়েজিদ খান জানান, সকালে আমগাছের ডালে ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পেয়ে তারা আশপাশের লোকজনকে ডাকাডাকি করেন এবং পরে পুলিশকে খবর দেন।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ঋণের চাপে ছিলেন আবুল কালাম। মৃত্যুর আগে কোমড়ে থাকা চিরকুটে ছয়জন ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে তাদের বিভিন্নভাবে দায়ী করেছেন তিনি। তবে চিরকুটের বিষয়বস্তু নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি পুলিশ।
নিহতের পাশের ঘরের পুত্রবধূ (ভাইয়ের ছেলের স্ত্রী) কাকলি বেগম বলেন, “ঋণের চাপ ও মানসিক দুশ্চিন্তার কারণেই তিনি এমন পথ বেছে নিয়েছেন বলে আমাদের ধারণা।
দুমকী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ সেলিম উদ্দীন জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের কোমড়ের সঙ্গে চার পৃষ্ঠার একটি লিখিত চিরকুট পাওয়া গেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।




