দুমকীতে বিটিসিএলের ইন্টারনেট সেবা বন্ধ ভোগান্তিতে গ্রাহকরা
বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি লিমিটেডের(বিটিসিএল) নিম্মমানের সেবা ও ভোগান্তিতে অতিষ্ঠ হয়ে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলার গ্রাহকরা।

মোঃ সজিব সরদার পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধিঃ বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি লিমিটেডের(বিটিসিএল) নিম্মমানের সেবা ও ভোগান্তিতে অতিষ্ঠ হয়ে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলার গ্রাহকরা।
টেলিফোন লাইনে মোটামুটি সংযোগ পাওয়া গেলেও গত বেশ কয়েক দিন ধরে বন্ধ রয়েছে ইন্টারনেট সেবা এমন অভিযোগ করেছেন গ্রাহকরা।
এতে একদিকে সরকার যেমন রাজস্ব হারাচ্ছেন অপরদিকে বিটিসিএলের স্বল্প মূল্যের ইন্টারনেট সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন গ্রাহকেরা। এদিকে দুমকীতে বিটিসিএলের ২৫০ ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়ার সক্ষমতা থাকলেও তা কমতে কমতে এখন সংযোগ রয়েছে মাত্র ৩ টি।
এছাড়াও বিটিসিএলের কাঙ্খিত সেবা না পাওয়ার পেছনে কোনো গভীর ষড়যন্ত্র কাজ করছে কি-না তা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর আহমেদ পারভেজ জানান, এতোদিন টেলিফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার পরে আজ আবার সংযোগ দিয়ে গেছে দুমকী বিটিসিএলের অফিস থেকে। ইন্টারনেট সেবা এখনো পাইনি।
উপজেলার ফোরসাইট মেডিকেল ইনিস্টিউটের পরিচালক সৈয়দ মজিবর রহমান টিটু অভিযোগ করে জানান, কিছু দিন আগে লাইনে একটা বিপর্যয় দেখা দিয়েছিল। বারবার তাগেদা দিয়ে টেলিফোন লাইন সংযোগ পেলেও ইন্টারনেট সংযোগ দিতেই পারেনি। উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেও তেমন কোন সারা পাচ্ছি না।
বিটিসিএলের জেলা কনিষ্ঠ সহকারী ব্যবস্থাপক(বহিঃ)মোঃ আজিমুল্লাহ হক তামিম বলেন, কপারের তারের লাইনের চেয়ে ফাইবার অপটিক্যাবলের লাইনে ইন্টারনেট সেবা উন্নত মানের। দুমকী উপজেলাকে সর্বোচ্চ ডিমান্ডিং এরিয়া উল্লেখ করে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখতভাবে চাহিদা দেওয়া হয়েছে।
তবে প্যানেল সমস্যার জন্য এমনটি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিটিসিএল বরিশালের উপ-মহাব্যবস্থাপক (টেলিকম) মো. শামীম ফকির। প্যানেল চেয়ে বিটিসিএলের ঢাকা অফিসে দ্রুতই চাহিদা পাঠানো হবে এবং প্যানেলটি আসলে ইন্টারনেট সেবা পূর্বের মত পাওয়া যাবে বলে জানান এই কর্মকর্তা। ইন্টারনেট সেবার মানোন্নয়নে কোন ষড়যন্ত্র কাজ করছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আসলে এটা সত্য নয়। আধুনিক টেকনোলজির সাথে আসলে ব্যাকডেটেড কপারের লাইনের সাথে যায় না।
প্রসঙ্গত, ১৯৯৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর তৎকালীন ধর্ম মন্ত্রী এম কেরামত আলী দুমকী টেলিফোন এক্সচেইঞ্জের নতুন ভবনের উদ্ভোদন করেন। গ্রাহক সেবা উন্নত এবং আরও সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলকে সাতটি ভাগে বিভক্ত করে ২১ জন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দিয়ে গত বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি 'র্যাপিড রেসপন্স টিম’ নামে একটি টিম তৈরি করা হয়েছে। যার মধ্যে ৫ নম্বরে রয়েছে বরিশাল বিভাগ। এ টিম গ্রাহকদের যে কোনো প্রকার অভিযোগ দ্রুততম সময়ের মধ্যে সমাধান করার জন্য আন্তরিকভাবে কাজ করবে বলে প্রতিশ্রুতি রয়েছে।