পরকিয়ার ফাঁদে ব্ল্যাকমেইল: দুমকিতে নারী গ্রেফতার
পরকিয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলে গোপনে ভিডিও ধারণ
মোঃ সজিব সরদার পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি: পরকিয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলে গোপনে ভিডিও ধারণ, পরে বিয়ে ও মামলার ভয় দেখিয়ে একাধিক যুবকের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায়ের অভিযোগে পটুয়াখালীর দুমকিতে শামিমা আক্তার আঁখি নামে এক নারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযোগ রয়েছে, এটি ছিল সুপরিকল্পিত প্রতারণা ও ব্ল্যাকমেইলের এক ভয়ংকর চক্র।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, পটুয়াখালী নারী ও শিশু জজ আদালতের ১৭৫/২৬ নম্বর মামলার ১৭(বি) ধারায় জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানার ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, শ্রীরামপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা ওই নারী দীর্ঘদিন ধরে দুমকি শহরে ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন।
অভিযোগ রয়েছে, তিনি পরিকল্পিতভাবে টার্গেট নির্ধারণ করে সম্পর্কের ফাঁদ পাততেন। পরে গোপনে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে বিয়ের চাপ, মামলা ও সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় করতেন।
একাধিক ঘটনায় স্থানীয়ভাবে সালিসের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, সামাজিক মানসম্মান ও পারিবারিক মর্যাদা রক্ষার তাগিদে তারা প্রকাশ্যে মুখ খুলতে পারেননি। অনেকেই চুপিসারে টাকা দিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করতে বাধ্য হয়েছেন। পরবর্তীতে প্রতারণার শিকার কয়েকজন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করলে বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ায় আসে।
এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহল বলছে, ব্যক্তিগত সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে এ ধরনের ব্ল্যাকমেইলিং সমাজের নৈতিক ভিত্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

এমন অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হলে প্রতারণার এ প্রবণতা আরও বিস্তার লাভ করতে পারে।
দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)মোঃ সেলিম উদ্দিন বলেন, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে এবং সংশ্লিষ্ট অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে।



