বদলগাছীতে তিনশত বছরের দেবোত্তর সম্পত্তির টিলা মাটি কেটে বিক্রির অভিযোগ

নওগাঁর বদলগাছীতে দেবত্তর সম্পত্তির তিনশত বছরের পুরাতন মাটির টিলা কেটে মাটি বিক্রির অভিযোগ উঠেছে নাজমুল হোসেন নামে এক মাটি খেকোর বিরুদ্ধে। অবৈধ মাটি খনন বন্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর ১১ মার্চ একটি লিখিত অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।

বদলগাছীতে তিনশত বছরের দেবোত্তর সম্পত্তির টিলা মাটি কেটে বিক্রির অভিযোগ

এবিএস রতন স্টাফ রিপোর্টার নওগাঁ : নওগাঁর বদলগাছীতে দেবত্তর সম্পত্তির তিনশত বছরের পুরাতন মাটির টিলা কেটে মাটি বিক্রির অভিযোগ উঠেছে নাজমুল হোসেন নামে এক মাটি খেকোর বিরুদ্ধে। অবৈধ মাটি খনন বন্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর ১১ মার্চ একটি লিখিত অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।  

অভিযোগের পর কয়েকদিন খনন বন্ধ রেখে প্রশাসন সহ সকল মহলকে ম্যানেজ করে পুনরায় কৌশলে দিনের পরিবর্তে রাতে আবারো চলছে খনন উৎসব।

এলাকাবাসীর অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, কোলা ইউনিয়নের কেশাইল মৌজায় দালান চাড়া নামক স্থানে প্রায় ৩শ বছরের পুরাতন ১৫ বিঘা মাটির টিলা রয়েছে। এলাকাবাসী টিলাটি দেবত্তর সম্পত্তি ও পুরুকীর্তি হিসাবে জানেন। উক্ত স্থানে ১৯৯৫-১৯৯৬ সালে বন্যায় এলাকার অনেক মানুষ আশ্রয় নেয়। ইতিপূর্বে এখান হতে স্বর্ণের মূর্তি পাওয়ার জল্পনা রয়েছে।

গত ৯ মার্চ থেকে এলাকার আওয়ামী ভূমিদস্যু নাজমুল হোসেন সেখান থেকে প্রতিদিন ২০/২৫ টি ট্রাক্টরে লাগিয়ে মাটি কেটে বিভিন্ন ইটভাটায় বিক্রি করছে। এতে ধুলো-বালির কারণে এলাকার পরিবেশ, প্রতিবেশ, জীব বৈচিত্র, জনস্বাস্থ্য, জনস্বার্থ, সরকারি রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অভিযোগে টিলাটি রক্ষার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য প্রশাসনের নিকট দাবী জানানো হয়। অভিযোগ পেয়ে কোলা ইউনিয়ন সহকারী কর্মকর্তা গিয়ে খনন বন্ধ করে সর্তক করে দেন। এরপর কয়েকদিন বন্ধ রাখার পর প্রশাসন সহ সকল মহলকে ম্যানেজ করে পুনরায় কৌশলে দিনের পরিবর্তে রাতে মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি শুরু করছে।

শত বছরের পুরাতন এই টিলা খননে প্রশাসনের নিরব ভূমিকায় চরম হতাশায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।

এবিষয়ে স্থানীয় বয়জেষ্ঠ্য আরাম আলী ও বাদেশ হোসেন সহ একাধীক ব্যাক্তি জানান, জায়গাটি একটি পুরাতন উচুঁ টিলা ও দেবত্তর সম্পতি। ইতিপূর্বে এখান হতে স্বর্ণের মূর্তি পাওয়া গিয়েছে। জায়গাটি খনন করলে আবারও কিছু পাওয়া যাবে। 

আর সেই লোভেই আওয়ামী ভূমিদস্যু নাজমুল খনন করে মাটি বিক্রি করছে। আমরা নিষেধ করলে মামলায় জড়ানো সহ বিভিন্ন ধরনের হুমকী-ধামকী দিচ্ছে। উপজেলা কর্মকর্তার নিকট লিখিত অভিযোগ করলে কয়েকদিন খনন বন্ধ রেখে পুনরায় আবারও খনন করে মাটি বিক্রি শুরু করেছে। রহস্যজন ভাবে এখন প্রশাসন নিরব রয়েছে। আমরা মনে করছি নিশ্চয় মোটা অংকের টাকা দিয়ে ম্যানেজ করেছে। 

মাটি ব্যবসায়ী নাজমুল হোসেন বলেন, আমার কোন বক্তব্য নেই। যারা অভিযোগ করেছে তাদের বক্তব্য নিন।বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।