সরেজমিনে ফেরির ভয়াবহ চিত্র,নিরাপত্তা ব্যবস্থার বেহাল দশা
মোঃ সজিব সরদার পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধিঃ দৌলতদিয়ায় সাম্প্রতিক মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পরও কোনো শিক্ষা নেয়নি পটুয়াখালীর দুমকি ও বগা ফেরী কর্তৃপক্ষ।
নিরাপত্তার ন্যূনতম ব্যবস্থা উপেক্ষা করে যাত্রী ও যানবাহন পারাপার অব্যাহত রাখায় যে কোনো সময় ভয়াবহ দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

রবিবার (২৯ মার্চ) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা রশি ছাড়াই ফেরী চলাচল করছে। অথচ ঢাকা থেকে বাউফল, গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলার মানুষের সড়কপথে যাতায়াতের একমাত্র ভরসা এই বগা ফেরী। প্রতিদিন হাজারো মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই পথে পারাপার হচ্ছে।
বিশেষ করে ঈদ ও ঈদ-পরবর্তী সময়ে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। নিয়ম ভেঙে অতিরিক্ত গাড়ি বোঝাই করে ফেরী পারাপারের ঘটনাও নিয়মিত ঘটছে, যা চরম ঝুঁকির জন্ম দিচ্ছে।
গত শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ফেরীতে থাকা একটি গাড়ির প্রায় এক-চতুর্থাংশ অংশ বাইরে ঝুলে রয়েছে। এমন দৃশ্য জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করলেও বাস্তবে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি সংশ্লিষ্টদের।
রবিবার এই প্রতিবেদককে ফেরী পারাপারের দৃশ্য ধারণ করতে গেলে ঘাটে নোঙর করার পর হঠাৎ করে নিরাপত্তা রশি লাগানোর চেষ্টা করা হয়। তবে সেটিও ছিল অত্যন্ত ঢিলেঢালা, যা যে কোনো সময় যানবাহনের চাপ সহ্য করতে ব্যর্থ হয়ে বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
ফেরী চালক মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, “ফেরীর সেফটি রশি লাগানোর কথা। কেন দেওয়া হয়নি তা আমি বলতে পারবো না। গাড়ি লোড হলে উপর থেকে সামনের রশি দেখা যায় না।
অন্যদিকে ফেরীতে দায়িত্বে থাকা সড়ক ও জনপথ বিভাগের কার্য সহকারী মো. হাসান মিয়া জানান, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি অবগত রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় মালামাল আনা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, “আগামীকাল থেকেই রশি স্থাপন করা হবে।
এ বিষয়ে পটুয়াখালী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জামিল আহম্মেদ বলেন, তিনি বর্তমানে ছুটিতে আছেন। তবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া আছে এবং বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।
এদিকে সচেতন মহল বলছে, কেবল আশ্বাসে নয়—দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে বগা ফেরীতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা শুধু সময়ের অপেক্ষা।




