ঠান্ডায় মানবেতর জীবন যাপন করছে বেদে পরিবার

কুমিল্লা জেলার বুড়িচং উপজেলায় বিভিন্ন স্থানে ও খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছে বেদে সম্প্রদায়ের কয়েকটি পরিবার।

ঠান্ডায় মানবেতর জীবন যাপন করছে বেদে পরিবার

মোঃ আবদুল্লাহবুড়িচং, কুমিল্লা প্রতিনিধি:কুমিল্লা জেলার বুড়িচং উপজেলায় বিভিন্ন স্থানে ও খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছে বেদে সম্প্রদায়ের কয়েকটি পরিবার। শীতের শুরু থেকে তাদের কষ্ট বাড়লেও, শীতের শেষের দিকে প্রচণ্ড ঠান্ডা ও ঘন কুয়াশায় তারা একেবারে অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে।

ঘরে নেই ঘুমানোর বিছানা, গায়ে জড়ানোর মতো উষ্ণ কাপড় নেই বললেই চলে। শিশু থেকে বৃদ্ধ সবাই কাঁপছে ঠান্ডায়। শিশুদের মুখে হাসি নেই, অসুস্থতায় ভুগছে অনেকে। নারীরা চেষ্টা করছেন কোনোভাবে খড়, প্লাস্টিক ও কাপড় দিয়ে ঘর ঠান্ডা ঠেকানোর, কিন্তু কুয়াশা-ভেজা বাতাস সবকিছু ভিজিয়ে দেয় প্রতিদিন।

এক বেদে নারী কাঁপতে কাঁপতে বলেন, রাত হলে মনে হয় হিমের নদীতে শুইয়া আছি। ছেলেমেয়ে কাঁপে, গা ঢাকার কিচ্ছু নাই।

পুরো বেদে পরিবারগুলোর খাবারের সংকট, ওষুধের অভাব আর পর্যাপ্ত কাপড় না থাকায় তারা এখন এক প্রকার জীবন-মৃত্যুর লড়াই করছে। শীতে কাজও পাওয়া যাচ্ছে না, ফলে অর্থনৈতিক কষ্ট চরমে।

স্থানীয়রা বলছেন, তারা এসব পরিবারকে মাঝে মাঝে কিছু কম্বল বা পুরোনো কাপড় দিয়ে সাহায্য করেন। কিন্তু তা প্রয়োজনের তুলনায় নগণ্য।

স্থানীয় এক যুবক বলেন, প্রতিবছর এভাবে বেদে পরিবারগুলো শীতে কষ্ট পায়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বড় কোনো উদ্যোগ দেখি না। মানবিক কারণেই এবার দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

এই ধরনের ভাসমান ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে সহায়তা করা না গেলে, শিশুরা নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত অসুস্থতায় পড়বে, বৃদ্ধদের মধ্যে দেখা দেবে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি।

তাদের দাবি, সরকার ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরুরি ভিত্তিতে কম্বল, শুকনো খাবার, ওষুধ ও সাময়িক গৃহ সহায়তা দিতে হবে। পাশাপাশি একটি স্থায়ী পুনর্বাসন পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে, যাতে প্রতি বছর তারা এমন বিপর্যয়ের মুখোমুখি না হয়।

দেশ এগিয়ে গেলেওসমাজের এমন প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এখনো বঞ্চনার শিকার। এই শীতে তাদের প্রতি মানবিক দৃষ্টি না দিলে, “উন্নয়নের গল্প” শুধু শহুরে পোস্টারেই আটকে থাকবে।