শীতকালে শিশুদের অসুস্থতা অবহেলা নয়,সচেতনতা জরুরি ডাঃ মালেকুল
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মালেকুল আফতাব ভূঁইয়া বলেন, শীত এলেই শিশুদের সর্দি–কাশি ও হালকা জ্বরকে অনেক অভিভাবক স্বাভাবিক বিষয় হিসেবে ধরে নেন।
মোঃ আবদুল্লাহ বুড়িচং প্রতিনিধি:কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মালেকুল আফতাব ভূঁইয়া বলেন, শীত এলেই শিশুদের সর্দি–কাশি ও হালকা জ্বরকে অনেক অভিভাবক স্বাভাবিক বিষয় হিসেবে ধরে নেন।
কিন্তু বাস্তবতা হলো, শীতকাল শিশুদের জন্য একটি উচ্চ ঝুঁকির সময়, বিশেষ করে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে। এই সময়ে সামান্য অবহেলাও গুরুতর অসুস্থতা মৃত্যুর কারণ হতে পারে।

শীতকালে ঠান্ডা আবহাওয়া ও পরিবেশগত পরিবর্তনের কারণে শিশুদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে। ঘরের ভেতরে দীর্ঘ সময় গাদাগাদি করে থাকা, পর্যাপ্ত রোদ না পাওয়া এবং পুষ্টির ঘাটতি—সব মিলিয়ে সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। ফলে সাধারণ সর্দি–কাশিও অনেক সময় জটিল আকার ধারণ করে।
এই মৌসুমে শিশুদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় সর্দি–কাশি, ইনফ্লুয়েঞ্জা, নিউমোনিয়া ও ব্রংকিওলাইটিস। পাশাপাশি ডায়রিয়া এবং হাঁপানি বা শ্বাসকষ্টের সমস্যাও বেড়ে যায়। বিশেষ করে নিউমোনিয়া শীতকালে শিশু মৃত্যুর একটি বড় কারণ। দুঃখজনকভাবে, অনেক ক্ষেত্রে সর্দি–কাশি দিয়ে শুরু হওয়া অসুখকে গুরুত্ব না দেওয়ার ফলে চিকিৎসা শুরু হতে দেরি হয়।
শীতকালে শিশুরা বেশি ঝুঁকিতে থাকার পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে। ঠান্ডার প্রভাবে শরীরের স্বাভাবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে। ঘরের দরজা–জানালা বন্ধ রাখার কারণে জীবাণু সহজে ছড়ায়। অনেক পরিবারে শিশুকে অতিরিক্ত বা অপর্যাপ্ত গরম কাপড় পরানো হয়, যা শিশুর স্বাভাবিক আরাম নষ্ট করে। পাশাপাশি অপুষ্টি, বুকের দুধ না পাওয়া, রান্নার ধোঁয়ার সংস্পর্শ এবং স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে অজ্ঞতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
শীতকালে শিশুর অসুস্থতায় কিছু লক্ষণ কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়। যেমন—শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া, দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস, বুক দেবে যাওয়া, তিন দিনের বেশি জ্বর, খেতে না চাওয়া কিংবা শিশুর অস্বাভাবিক নিস্তেজ ভাব। এসব লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া জরুরি।
শিশুদের শীতকালীন অসুস্থতা প্রতিরোধে বড় কোনো খরচের প্রয়োজন নেই। শিশুকে পরিষ্কার ও আরামদায়ক উষ্ণ কাপড় পরানো, নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা, বুকের দুধ চালু রাখা এবং সময়মতো টিকা নিশ্চিত করা অত্যন্ত কার্যকর। অসুস্থ ব্যক্তিকে শিশুর কাছ থেকে দূরে রাখা, ঘরের ভেতরে ধোঁয়া এড়িয়ে চলা এবং অপ্রয়োজনে শিশুকে ভিড়ের মধ্যে না নেওয়াও সংক্রমণ কমাতে সাহায্য করে।
শীতকালে শিশু স্বাস্থ্য কেবল পারিবারিক বিষয় নয়; এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য ইস্যু। সচেতনতা ও সময়মতো পদক্ষেপ নিলে অল্প খরচেই শিশুকে গুরুতর অসুস্থতা থেকে রক্ষা করা সম্ভব।




