ঈদ আনন্দে মেতেছে বেরোবি শিক্ষার্থীরা

যদিও "ক্যাম্পাস" একজন শিক্ষার্থীর দ্বিতীয় বাড়ি হিসেবে বিবেচনা করা হয় কিন্তু আমার কাছে মনে হয় ক্যাম্পাস ও নিজের বাড়ির মধ্যে কিছুটা বিপরীতমুখী সম্পর্ক বিদ্যমান

ঈদ আনন্দে মেতেছে বেরোবি শিক্ষার্থীরা

বেরোবি প্রতিনিধি:যদিও "ক্যাম্পাস" একজন শিক্ষার্থীর দ্বিতীয় বাড়ি হিসেবে বিবেচনা করা হয় কিন্তু আমার কাছে মনে হয় ক্যাম্পাস ও নিজের বাড়ির মধ্যে কিছুটা বিপরীতমুখী সম্পর্ক বিদ্যমান। এ থেকেই হয়তো ঈদের ছুটিতে ক্যাম্পাস থেকে বাড়ি ফেরার অনুভূতি এক অদ্ভুত মিশ্রণ। তবে একদিকে যেমন আনন্দ ও প্রশান্তি, অন্যদিকে একটি অজানা অভাব ও বেদনা। বিশ্ববিদ্যালয়ের কঠিন দিনগুলো, বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গ, একাডেমিক চাপ, সব কিছু মিলে কিছুটা সময় শূন্যতা অনুভব বিরাজ করে। তবে এই শূন্যতা ক্ষণস্থায়ী ও নিমিষেই চলে যাওয়ার মত। কারণ, বাড়ি ফিরে প্রিয় মুখগুলো দেখবো বলে কথা।

ক্যাম্পাসের পরিচিত পরিবেশ ছেড়ে, পরিবারের স্নেহমাখা আশ্রয়ে ফিরে যাওয়ার মুহূর্ত অসম্ভব চমৎকার। 

ছুটিতে বাড়ি ফিরতে গিয়েই মনে হয়, এক দীর্ঘ যাত্রার পর সুস্থিরতা মিলবে। বাসার দিকে চলার সময় অন্তরে যে শূন্যতা ছিল, তা হারিয়ে যায় পরিবারের উষ্ণ অভ্যর্থনা ও প্রিয়জনদের হাসিমুখে। বন্ধুবান্ধব এবং শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সঙ্গে থাকা নানা মুহূর্তের স্মৃতি মনে পড়ে, কিন্তু তারপরও মনে হয়, এই বিশাল ক্যাম্পাসের তুলনায় বাড়ি অনেক বড়, অনেক সুরম্য। 

ঈদের দিনগুলোতে পরিবারের সাথে সময় কাটানো যেন জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সময়। মনের ভিতরের ক্লান্তি এবং সব প্রতিযোগিতার চাপ এক মুহূর্তে দূর হয়ে যায়। এই ছুটিতে নতুন করে জীবনের উদ্দেশ্য বুঝতে পারি, একে-অপরের প্রতি ভালোবাসার গভীরতা অনুভব করতে পারি। ঈদ মানে শুধু একটি উৎসব নয়, এটি আবার পরিবারের সাথে নতুনভাবে জুড়ে থাকার সুযোগ, যেখানে সব কিছু অতীতের মতো স্নিগ্ধ ও ভালোবাসায় ভরা থাকে। 

ঈদের ছুটিতে ক্যাম্পাস থেকে বাড়ি ফেরার অনুভূতি এক অমুল্য অভিজ্ঞতা, যা অন্য কোন ছুটিতে বাড়ি ফেরার এই অমূল্য অভিজ্ঞতা মিলে না।

মুজাহিদ হোসেন-সমাজবিজ্ঞান বিভাগ ১৪ তম ব্যাচ 

সারা বছর ক্যাম্পাসে পড়াশোনা আর পরীক্ষার চাপে থাকা হয়, কিন্তু বাড়ি যাওয়ার সময় এলেই মনটা অন্যরকম ভালো লাগে।বাবা মায়ের সঙ্গে দেখা, বাবার স্নেহ, মা'র হাতের রান্না, ছোটবেলার বন্ধুদের সাথে আড্ডা—এসবের জন্য অপেক্ষা করি পুরোটা সময়।

এদিকে বাড়ির অপেক্ষায় থাকা স্বজনদের ব্যস্ততা যেন আরও বেশি। মায়েরা রান্নাঘরে ব্যস্ত, বাবারা বাজারে গিয়ে সন্তানের প্রিয় খাবার কিনছেন, দাদা-দাদিরা উঠোনে বসে পথ চেয়ে আছেন। ছোটরা গুনছে সময়, কখন দরজায় কড়া পড়বে, কখন বাড়ির মানুষ ফিরে আসবে!

সব মিলিয়ে বাড়ি ফেরার এই যাত্রা শুধু শারীরিক স্থানান্তর নয়, বরং এক গভীর আবেগের বিষয়। পথের ক্লান্তি, যানজট, দীর্ঘ অপেক্ষা—সবই যেন তুচ্ছ হয়ে যায় পরিবারের উষ্ণ আলিঙ্গনে। কারণ বাড়ির চেয়ে আপন আর কোথাও নয়!

আখিঁ আকতার-গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ ১৩ তম ব্যাচ 

যখন ঈদের ছুটি ঘনিয়ে আসে, ক্যাম্পাসের চেনা পরিবেশ বদলে যেতে থাকে, আর আমি এক ধরনের মিশ্র অনুভূতির মধ্য দিয়ে যাই। একদিকে বাড়ি ফেরার আনন্দ, পরিবারের সাথে ঈদ উদযাপনের উচ্ছ্বাস—অন্যদিকে, প্রিয় ক্যাম্পাস আস্তে আস্তে ফাঁকা হয়ে যাওয়ার এক ধরনের শূন্যতা।

বন্ধুরা যার যার গন্তব্যে রওনা দেয়, ব্যাগ গোছানোর শব্দ, ট্রেন বা বাসের টিকিট নিয়ে উত্তেজনা—সব মিলিয়ে এক অন্যরকম ব্যস্ততা থাকে। ক্যাম্পাসের ক্যান্টিন, লাইব্রেরি, আড্ডার জায়গাগুলো হঠাৎ করেই শান্ত হয়ে যায়, যা একটু অদ্ভুত লাগে।

বাড়ি ফেরার পথটাও আনন্দে ভরা থাকে—পরিবারের সাথে দেখা হওয়ার অপেক্ষা, প্রিয় খাবারের স্বাদ নেওয়ার কল্পনা, আর ঈদের দিন সকালে সবাই মিলে নামাজ পড়তে যাওয়ার ভাবনা। তবে ক্যাম্পাস ছাড়ার আগে একটু খালি লাগেই, কারণ এখানে কাটানো প্রতিটি মুহূর্তই মনে গেঁথে থাকে।

ঈদের ছুটি যেন একটা ছোট্ট বিরতি, যা আমাকে রিচার্জ করে, ভালোবাসার মানুষদের সাথে সময় কাটানোর সুযোগ দেয়। তবে ছুটির পর আবার ক্যাম্পাসে ফিরতে, বন্ধুদের সাথে নতুন গল্প শেয়ার করতে, নতুন উদ্যমে পথচলা শুরু করতেও আমি ঠিক ততটাই উচ্ছ্বসিত থাকি!

মেহেরব সিয়াম-একাউন্টটিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেম ১৩ তম ব্যাচ

ঈদের ছুটিতে বাড়িতে না গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাটা অনেকের জন্যই একটা মিশ্র অভিজ্ঞতা হতে পারে। এটা বেশ একাকীত্বের অনুভূতি তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে যখন সবাই পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছে। পরিচিত পরিবেশ, উৎসবের আমেজ, এবং পরিবারকে মিস করা স্বাভাবিক বিষয়। তবে কিছু মানুষের জন্য এটা নিজের জন্য সময় নেওয়ার সুযোগ হতে পারে — পড়াশোনা, নিজের স্কিল ডেভেলপমেন্ট বা বন্ধুদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সময় কাটানোর সুযোগও তৈরি হয়। ঈদের সময় ক্যাম্পাসে থাকা মানেই যে সেটা শুধুই মন খারাপের বিষয় হবে, তা নয়। কেউ কেউ এটাকে আত্মজিজ্ঞাসা, পড়াশোনায় মনোনিবেশ বা নতুন কিছু শেখার সময় হিসেবেও কাজে লাগাতে পারেন।

অপি ত্রিপুরা-সমাজবিজ্ঞান ১২ তম ব্যাচ