চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাদকবিরোধী সেমিনার
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধিঃ চাঁপাইনবাবগঞ্জে সন্তানদের মাদকের অন্ধকার থেকে আলোর পথে ফিরিয়ে আনতে অভিভাবক, সমাজ ও প্রশাসনের সম্মিলিত করণীয় বিষয়ে এক সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১২ মে ২০২৬) সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয়, চাঁপাইনবাবগঞ্জের আয়োজনে এবং “নিউ প্রত্যাশা” বেসরকারি মাদকাসক্তি চিকিৎসা সহায়তা কেন্দ্রের সহযোগিতায় ডিএনসি কনফারেন্স রুমে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

“সন্তানকে মাদকের অন্ধকার থেকে আলোর পথে ফিরিয়ে আনতে অভিভাবক, সমাজ ও প্রশাসনের সম্মিলিত করণীয়” শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু ছালেহ মোঃ মুসা জঙ্গী।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নবাবগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. বিপ্লব কুমার মন্ডল। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয়, চাঁপাইনবাবগঞ্জের উপপরিচালক চৌধুরী ইমরুল হাসান।
অনুষ্ঠানে নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি থাকা রোগীদের প্রায় ৬০ জন অভিভাবক অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা মাদকাসক্তদের সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনা এবং সুস্থতা ধরে রাখতে পরিবার, সমাজ ও প্রশাসনের সমন্বিত ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, সন্তানরা সন্ধ্যার পর কোথায় যায় এবং কার সঙ্গে মিশে—সে বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন নজরদারি রাখতে হবে। তিনি বিশেষ করে কলেজ পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের স্মার্টফোন ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা আরোপের ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, মোবাইল ফোনের অপব্যবহার যুবসমাজকে মাদক, জুয়া ও নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাদকবিরোধী কমিটির কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে প্রশাসন সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে। পাশাপাশি চিকিৎসা শেষে মাদকাসক্তদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে বেসরকারি শিল্প প্রতিষ্ঠানে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির আশ্বাস দেন তিনি।
মূল প্রবন্ধে প্রফেসর ড. বিপ্লব কুমার মন্ডল মাদকের ভয়াবহ ক্ষতিকর দিক তুলে ধরেন এবং মাদক প্রতিরোধে অভিভাবকদের করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। অনুষ্ঠানে কয়েকজন অভিভাবক তাদের মাদকাসক্ত সন্তানদের দুর্বিষহ জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন, যা উপস্থিত সবাইকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। সেমিনারে বক্তারা মাদক প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পারিবারিক বন্ধন জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।



