প্রতিনিয়ত আগুনের ঝুঁকিতে বসবাস করছেন দুমকির মানুষ
মোঃ সজিব সরদার পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধিঃ স্বাধীনতার ৫৪ বছর পার হলেও পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় এখনো স্থাপিত হয়নি বহুল প্রত্যাশিত ফায়ার সার্ভিস স্টেশন। ফলে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রতিবছর ব্যাপক জানমালের ক্ষয়ক্ষতি হলেও দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হচ্ছে না।
মাত্র পাঁচটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ছোট উপজেলা হলেও এখানে রয়েছে দক্ষিণাঞ্চলের শিক্ষার বাতিঘর খ্যাত পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পায়রা সেতু, লেবুখালী সেনানিবাস, উপজেলা পরিষদ, হাসপাতাল, কলেজ, ব্যাংকসহ অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা। এসব স্থাপনা অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিতে থাকলেও স্থানীয়ভাবে কোনো ফায়ার সার্ভিস ইউনিট নেই।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার কোথাও আগুন লাগলে বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স-এর দমকল বাহিনী পটুয়াখালী সদর বা বাকেরগঞ্জ থেকে আসতে আসতে অনেক সময় পুরো স্থাপনা পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এতে বাজারের শত শত দোকান, বসতঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়ে কোটি কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে।
গত কয়েক বছরে মুরাদিয়া বোর্ড অফিস বাজারের সাতটি দোকান, দক্ষিণ চরবয়ড়া গ্রামের চারটি বসতঘর, রাজাখালী গ্রামের একটি বসতঘর, দক্ষিণ শ্রীরামপুর গ্রামের একটি গরুর খামার, উত্তর শ্রীরামপুরের একটি বেকারি, দুমকি নতুন বাজারের হোটেলসহ অসংখ্য ঘরবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে গেছে।
সর্বশেষ গত ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে মুরাদিয়া বোর্ড অফিস বাজার এলাকায় মানসিক ভারসাম্যহীন বিধবা শেফালী বেগমের বসতঘর আগুনে সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। এতে তিনি মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ফায়ার সার্ভিস স্টেশন না থাকায় প্রতিটি অগ্নিকাণ্ডেই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলে এসব ক্ষতি অনেকাংশে কমানো যেত।
মুরাদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ তারিকুল ইসলাম বলেন, “দুমকি উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপন করা দীর্ঘদিনের দাবি। গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও স্থাপনা থাকায় এটি এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
দুমকি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছাঃ ফরিদা সুলতানা বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জেলা প্রশাসকের সঙ্গে বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা করা হবে।
পটুয়াখালী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইউনিট লিডার সুবোধ চন্দ্র মন্ডল জানান, দুমকিতে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপনের জন্য কয়েকটি স্থান পরিদর্শন করা হয়েছে। তবে প্রশাসনিক জটিলতার কারণে কাজ এগোয়নি। দ্রুত এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
দুমকিবাসীর আশা, সরকারের দ্রুত উদ্যোগে উপজেলায় একটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপন করা হলে জানমাল রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং অগ্নিকাণ্ডজনিত ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমে আসবে।



