নাসিরনগরে ঐতিহ্যবাহী শুঁটকি মেলা
সুজিত কুমার চক্রবর্তী ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টাফ রিপোর্টারঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় প্রতি বছরের ন্যায় পঞ্জিকা অনুযায়ী বাংলা নববর্ষে উপজেলা সদর লঙ্গন নদী তীরে মহাখাল পাড়ায় ও কুলিকুন্ডা গ্রামে বসেছে হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী শুঁটকি মেলা ও বিনিময় প্রথা।

বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে পয়লা বৈশাখের দ্বিতীয় দিন থেকে কুলিকুন্ডা উত্তর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে হাজার বছরের ঐতিহ্য শুঁটকি মেলা ও প্রাচীন পণ্য বিনিময় প্রথা চলবে তিন দিন। উক্ত মেলায় স্থানীয়দের পাশাপাশি সুনামগঞ্জ, সিলেট, হবিগঞ্জ, আশুগঞ্জ, ভৈরবসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যবসায়ীও দর্শনার্থীরা অংশ নিচ্ছে। মেলায় অন্যতম আকর্ষণ হচ্ছে পণ্য বিনিময় প্রথা। মেলা শুরুতে স্থানীয় কৃষকদের উৎপাদিত ডাল, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, শিমের বিচি, আমসহ হরেক রকম ফল ও সব্জির বিনিময়ে বিভিন্ন জাতের শুঁটকি সংগ্রহ করেন ক্রেতারা। সকালে মেলায় মহিলাদের অংশ বেশি দেখা যায়। মেলায় বোয়াল, গজার, শোল, বাইম, পুটি, ট্যাংরা, আইড়,ছুরি সহ বিভিন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক মাছের ডিম ও শুঁটকি পাওয়া যায়। শুঁটকির পাশাপাশি কুমারদের তৈরি মত শিল্প, নানাহ সামগ্রীসহ খেলনা বিক্রি করা হচ্ছে। এলাকার স্থানীয় ব্যক্তিগণ জানান,এই মেলা তাদের বাপ/ দাদাদের জন্মের আগে থেকে অর্থ্যৎ ১০০০ বছরের পুরাতন ঐতিহ্য বহন করচ্ছে। যখন টাকার প্রচলন ছিল না তখন থেকে এক পণ্যের বিনিময়ে অন্য কৃষিপণ্য আদান-প্রদান করা হত, সেই প্রথা থেকে মেলায় বিনিময় প্রথা চালু রাখা হয়েছে।মেলার পরিচালনা কমিটির সভাপতি ওহাব আলী বলেন, এই মেলা ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের অংশগ্রহণে গ্রামীণ বাংলার পুরাতন ঐতিহ্য ফুটে ওঠে। মেলায় আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও এলাকার সর্বস্তরের জনগণ সার্বিক সহযোগিতা করে যাচ্ছে।




