দুমকিতে ঘুষের ফাঁদে টোলকর্মীর চাকরি শেষ
মোঃ সজিব সরদার পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকিতে পায়রা সেতু টোল প্লাজায় ঘুষের বিনিময়ে অতিরিক্ত ওজনের পণ্যবোঝাই ট্রাক পারাপারের অভিযোগে এক টোলকর্মীকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। একই ঘটনায় ট্রাকচালকের বিরুদ্ধে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ঘটনাটি সামনে আসার পর টোল প্লাজার কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই একটি অসাধু চক্র অর্থের বিনিময়ে অতিরিক্ত ওজনের ট্রাক সেতু পারাপারে সহায়তা করে আসছে।

বুধবার(২জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার দিকে ২২ টন ধারণক্ষমতার ঢাকা মেট্রো-ট ১৮-০৮৯৯ নম্বরের একটি ট্রাক ২৩ দশমিক ১৮০ টন আম নিয়ে পায়রা সেতুর উত্তর প্রান্তের ওজন স্কেলে আসে। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে দায়িত্বে থাকা টোলকর্মী মো. হাসান এক হাজার টাকা ঘুষের বিনিময়ে নির্ধারিত নিয়ম উপেক্ষা করে ট্রাকটিকে সেতু পার হওয়ার সুযোগ করে দেন।
তবে ট্রাকটি সেতুর দক্ষিণ প্রান্তে পৌঁছালে দায়িত্বরত অন্য টোলকর্মীদের সন্দেহ হয়। পরে ট্রাকটি আটক করে চালক কবির হোসেনকে টোল অফিসে নেওয়া হয়। প্রাথমিক তদন্তে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় দায়িত্বে থাকা টোলকর্মী মো. হাসানকে তাৎক্ষণিকভাবে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে অতিরিক্ত ওজনের পণ্য পরিবহনের দায়ে ট্রাকচালক কবির হোসেনের বিরুদ্ধে ১৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড আরোপ করা হয়।
পায়রা সেতুর টোল ইনচার্জ সজল বিশ্বাস বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, "তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। তাই সংশ্লিষ্ট টোলকর্মীকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। এছাড়া অতিরিক্ত ওজনের পণ্য পরিবহনের দায়ে ট্রাকচালককে জরিমানা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকাতে নজরদারি আরও জোরদার করা হবে।

এদিকে স্থানীয়দের দাবি, এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। তাদের অভিযোগ, টোল প্লাজার কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়মিত অর্থের বিনিময়ে অতিরিক্ত বোঝাই ট্রাক পারাপারের সুযোগ করে দেন। এতে একদিকে যেমন সেতুর নিরাপত্তা ও স্থায়িত্ব ঝুঁকির মুখে পড়ছে, অন্যদিকে সরকারও রাজস্ব ও শৃঙ্খলা ব্যবস্থাপনায় ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।
এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ, টোল প্লাজায় সার্বক্ষণিক নজরদারি বৃদ্ধি এবং অতিরিক্ত ওজনের যানবাহন নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।



