নওগাঁ-১ আসনে জামানত হারাচ্ছের সাবেক সংসদ সদস্যসহ তিনজন

নওগাঁ-১ আসনে জামানত হারাচ্ছের সাবেক সংসদ সদস্যসহ তিনজন

তৈয়বুর বহমান নিয়ামতপুর নওগাঁ প্রতিনিধিঃ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নওগাঁ-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্যসহ তিনজন প্রার্থী জামানত হারাতে যাচ্ছেন। এই আসনে নির্বাচনে অংশ নেওয়া পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে তিন জনই জামানত হারাচ্ছেন।

ঘোষিত ফলাফলে দেখা গেছে, বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ছাড়া অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র হিসেবে যাঁরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তাঁদের সবাই জামানত হারাতে যাচ্ছেন। 

নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুযায়ী, কোনো সংসদীয় আসনে মোট প্রদত্ত বা প্রাপ্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ বা সাড়ে ১২ শতাংশ ভোট যদি কোনো প্রার্থী না পান, সে ক্ষেত্রে তাঁর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। নওগাঁ-১ আসনে তিনজন প্রার্থী প্রদত্ত ভোটের সাড়ে ১২ শতাংশেরও কম পেয়েছেন। 

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বিধি অনুযায়ী, মনোনয়ন দাখিলের সময় একজন প্রার্থীকে ইসির অনুকূলে জামানত হিসেবে ৫০ হাজার টাকা জমা দিতে হয়। নির্বাচনে কোনো নির্বাচনী এলাকার প্রদত্ত ভোটের সাড়ে ১২ শতাংশ ভোট যদি কোনো প্রার্থী না পান, তাহলে নির্বাচন কমিশনে ওই প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। 

নওগাঁ জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নওগাঁ-১ (নিয়ামতপুর, পোরশা ও সাপাহার) আসনে পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে একজন সাবেক সংসদ সদস্যসহ তিনজন প্রার্থী জামানত হারাচ্ছেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে ভোট পড়েছে ৩ লাখ ৬৭ হাজার ৫১১। প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ হচ্ছে ৪৫ হাজার ৯৩৮ ভোট, যা পাননি তিন প্রার্থী। 

তাঁরা হলেন, স্বতন্ত্র হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা সাবেক সংসদ সদস্য ছালেক চৌধুরী (মোটরসাইকেল) , ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আব্দুল হক শাহ্ (হাতপাখা) ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী আকবর আলী (লাঙ্গল)।

ফলাফলে দেখা গেছে, ছালেক চৌধুরী মোটরসাইকেল প্রতীকে পেয়েছেন ১৮ হাজার ৮৮ ভোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আব্দুল হক শাহ্ হাতপাখা প্রতীকে পেয়েছেন ৯ হাজার ৫৮ ভোট ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী আকবর আলী লাঙ্গল প্রতীকে পেয়েছেন ৪ হাজার ২৪৩ ভোট।

ছালেক চৌধুরী ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। এবার দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় দলের প্রাথমিক সদস্যসহ দলীয় পদ থেকে তাঁকে বহিষ্কার করা হয়।