৪০ বিঘা জমি থাকা শর্তেও মাকে রেখে গেল পটল ক্ষেতে

নওগাঁ জেলার বদলগাছি উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নে স্বামীর রেখে যাওয়া প্রায় ৩৫ বিঘা জমি ও ৮ জন ছেলে-মেয়ে থাকা সত্ত্বেও ছোট মেয়ে মাকে রেখে জান পটলের জমিতে।

৪০ বিঘা জমি থাকা শর্তেও মাকে রেখে গেল পটল ক্ষেতে

এ.বি.এস রতন স্টাফ রিপোর্টার : নওগাঁ জেলার বদলগাছি উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নে স্বামীর রেখে যাওয়া প্রায় ৩৫ বিঘা জমি ও ৮ জন ছেলে-মেয়ে থাকা সত্ত্বেও ছোট মেয়ে মাকে রেখে জান পটলের জমিতে। 

 ৮ বছর আগে স্বামী মারা যাওয়ার পর সম্পত্তির ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে ছেলে-মেয়ের মাঝে বাধে বিরোধ। কেউ মায়ের ভরণ পোষণের দায়িত্ব নিতে চায় না। তাই তো সম্পত্তির জন্য বৃদ্ধা মাকে খোলা আকাশের নিচে পটল খেতে রেখে গেল ছোট মেয়ে।

বৃদ্ধা সুফিয়া বেগম। বয়স প্রায় ৮৫ বছর। কথা বলতে পারেন না। বয়সের ভারে প্রায় অচল হয়ে পড়েছে চলাফেরাও করতে পারেন না এই বৃদ্ধ সুফিয়া বেগম 

কেউ সরকারি চাকরি করেন, কেউ আবার কৃষিকাজ করেন। ঘটনাটি ঘটেছে ৩ এপিল) বৃহস্পতিবার বিকাল ৫ টায় জেলার বদলগাছি উপজেলার মথুরাপুর ইউপির জগতনগড় গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এলাকায় জানাজানি হলে সন্ধ্যার পর বৃদ্ধা সুফিয়া বেগমকে এক নজর দেখতে গ্রামবাসী হাজির হন ।

সংবাদ পেয়ে জগৎনগর গ্রামে গিয়ে দেখা যায় বৃদ্ধা সুফিয়া বেগম খোলা আকাশের নিচে একটি বালিশের মাথা দিয়ে শুয়ে আছেন। কথা বলার চেষ্ঠা করলে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকছেন। কিছু বলার চেষ্টা করেও বলতে পারে না। বৃদ্ধা সুফিয়া বেগমের কষ্ট দেখে রাতে মোশার হাত রক্ষার জন্য গ্রামবাসী মোশারী টাঙিয়ে দিয়েছেন। কেউ আবার কয়েল জালিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু পরিবারের লোকজনের কেউ এক নজর দেখতেও আসেনি। ছেলেদের সাথে কথা বলার জন্য গেলে সংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর দরজা বন্ধ করে দেয়। তবে ঘটনার এক ঘন্টা পর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে আসলে মশিউর নামের এক ছেলে বৃদ্ধা সুফিয়া বেগমকে খোলা মাঠ থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে তার বাড়িতে জায়গা দেন।

গ্রাম বাসিরা বলেন,“সুফিয়া বেগমের স্বামীর ৪০বিঘার প্রায় সকল জমিই ছেলেরা দখলে রাখে। এছাড়া কিছু জমি ছেলেরা আগেই তার বাবার কাছ থেকে লিখে নেয়। বিষয়টি জানতে পেরে বৃদ্ধা সুফিয়া বেগম তার নামে থাকা তিন বিঘা জমি পাঁচ মেয়েদের কে লিখে দেন। এরপর ছেলেদের কাছে শত্রæ হয়ে যায় জন্মদাতা “মা”। তারপর থেকেই মায়ের খোঁজ নেয় না ছেলেরা। পরবর্তীতে একইগ্রামের ছোট মেয়ে আঙ্গুর বেগম ও জামাই ফিরোজ হোসেনের বাড়িতে জায়গা হয় তার। কিন্তু কতোদিন? এই ক্ষোভ থেকে মেয়ে রেখে গিয়েছে খোলা আকাশের নিচে।

জামাই ফিরোজ হোসেন বলেন,“শ্বাশুড়ী আমার কাছেই ছিলো। কোন ছেলেরা তার খোঁজ খবর নেয় না। অসুস্থ হওয়ার খবর শোনার পরও ছেলেরা মাকে দেখতে আসেনি। তাই রাগ করে আজকে তার মেয়ে আঙ্গুর বেগম আমার শাশুড়ীকে ফাঁকা মাঠে ফেলে আসে।

মথুরাপুর ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান আহসান হাবিব লিটন ও বদলগাছী থানার উপ-পরিদর্শক নিহার চন্দ্র বলেন, ঘটনা জানার পর এখানে এসেছি। তার ছেলেদের সাথে কথা বলেছি, তার ছেলে মশিউরের কাছে আছে বৃদ্ধা মা সুফিয়া বেগম। মায়ের ভরণ পোষণের দায়িত্ব না নিলে ছেলে-মেয়েদের বিরুদ্ধে ভরণ পোষন আইনে মামলা করা হবে।

পরবর্তীতে এধরণের ঘটনা ঘটলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইসরাত জাহান ছনি।