নেত্রকোণায় স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদণ্ড
নেত্রকোণা প্রতিনিধি : নেত্রকোণায় স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদণ্ড রায় দিয়েছেন নেত্রকোণা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিজ্ঞ বিচারক। এসময় দুইজনকে খালাস দিয়েছেন।
আজ বুধবার (২৪জুন) দুপুরের দিকে নেত্রকোণা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিজ্ঞ বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) এ.কে.এম এমদাদুল হক এই রায় দেন।

মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত ব্যক্তি হলেন - নেত্রকোণা জেলার কলমাকান্দা উপজেলার ক্ষুদ্র সিধলী গ্রামের মোঃ তোরাব আলীর ছেলে মোঃ শফিকুল ইসলাম।
মামলায় খালাস পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন - মোঃ তোরাব আলী ও তার স্ত্রী সখিনা খাতুন।
মামলার বাদী ছিলেন - ভিকটিম পারভীন আক্তারের ছোট ভাই নেত্রকোণা জেলার বারহাট্টা উপজেলার রত্নপুর গ্রামের মোঃ আবু ইউসুফ (২৪)।
বাদীর দায়ের করা অভিযোগে ও মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে প্রকাশ - প্রায় ১০বৎসর আগে ভিকটিম পারভীন আক্তারকে কলমাকান্দা থানাধীন কৈলাটি ইউনিয়নের ক্ষুদ্র সিধলী গ্রামের মোঃ তোরাব আলীর ছেলে মোঃ শফিকুল ইসলামের সাথে ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক বিয়ে হয়। ভিকটিমের দুই ছেলে রয়েছে জুনায়েদ হাসান (৯) ও জুবাইদ আহম্মেদ সানি (৫)। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই ভিকটিমের স্বামী শফিকুল ইসলাম তার বাবা-মায়ের সহযোগীতায় যৌতুকের জন্য বিভিন্ন সময়ে ভিকটিম পারভীন আক্তারকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছিল। ২০১৯ সালের ২৫মার্চ ভিকটিম পারভীন আক্তারের স্বামী শফিকুল ইসলাম ভিকটিমের বাবার বাড়ী থেকে টাকা আনার জন্য বলে, ভিকটিম পারভীন আক্তার অপারগতা জানালে পারভীন আক্তারকে তার স্বামী শফিকুল ইসলাম মারপিট করে। এসব নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে ভিকটিম তার বাবার বাড়ীতে চলে যায়। পরে এলাকার স্থানীয় মেম্বার ওয়াহাব মিয়া, হাফেজ শামীম আহম্মেদ সহ অনেকেই দরবার, শালিস করে করে পারভীন আক্তারকে তার স্বামী শফিকুল ইসলামের কাছে দেয়। এসময় শফিকুল ইসলাম ও তার পরিবারের লোকজন অঙ্গীকার করেন ভবিষ্যতে পারভীন আক্তারকে যৌতুকের জন্য মারপিট এবং মানসিক নির্যাতন করবে না। এইমর্মে মিমাংসা করা হয়।

এদিকে ২০১৯ সালের ২৬এপ্রিল রাত আনুমানিক ২টা ৫০মিনিটে অভিযুক্ত শফিকুল ইসলামের বাড়ীর প্রতিবেশী হাফেজ শামীম আহম্মেদ মামলার বাদী মোঃ আবু ইউসুফকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সংবাদ দেয় ভিকটিম পারভীন আক্তারের মৃত্যুর ঘটনার। পরে বাদী মোঃ আবু ইউসুফ খবর পেয়ে আত্মীয় স্বজন নিয়ে এসে দেখতে পায় অভিযুক্ত শফিকুল ইসলামের বাবা ও ভিকটিম পারভীন আক্তারের শ্বশুর মোঃ তোরাব আলীর চৌচালা টিনের দক্ষিন দুয়ারী ঘরের বারান্দায় মরদেহ। এসময় পারভীন আক্তারের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পায়। বাদী মোঃ আবু ইউসুফ স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা সূত্রে জানতে পারেন ভিকটিম পারভীন আক্তারের কাছে এক লাখ টাকা আনার জন্য বলেছিল অভিযুক্ত শফিকুল ইসলাম। তা নিয়ে অভিযুক্ত শফিকুল ইসলাম ভিকটিম পারভীন আক্তারের ওপর মারপিট করে এবং পারভীন আক্তারের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় বাদী মোঃ আবু ইউসুফ কলমাকান্দা থানা ও সিধলী তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশকে অবগত করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরী শেষে ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোণা জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠাই।
মামলার বাদী মোঃ আবু ইউসুফ হজ্জে থাকায় তার মা আলেয়া আক্তারের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি তার মেয়ে পারভীন আক্তারের মৃত্যুর ঘটনায় স্বামী শফিকুল ইসলামের মৃত্যুদণ্ড রায়ে সন্তুষ্ট প্রকাশ করেন এবং তিনি দাবি জানান রায় যেন দ্রুত কার্যকর করা হয়।

মৃত্যুদন্ড রায়ের ঘোষণার সত্যতা নিশ্চিত করে নেত্রকোণা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটরের (পিপি) অ্যাডভোকেট মোঃ নূরুল কবীর রুবেল জানান - ২০১৯সালে ২৬এপ্রিল রাতে নেত্রকোণা জেলার কলমাকান্দা উপজেলার ক্ষুদ্র সিধলী গ্রামের মোঃ তোরাব আলীর ছেলে মোঃ শফিকুল ইসলাম তার স্ত্রী পারভীন আক্তারকে হত্যা করে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ভিকটিমের ছোট ভাই মোঃ আবু ইউসুফ বাদী মামলা দায়ের করেন। আজ বুধবার (২৪জুন) নেত্রকোণার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিজ্ঞ বিচারক একেএম এমদাদুল হক ভিকটিমের স্বামী মোঃ শফিকুল ইসলামের মৃত্যুদণ্ড রায় দেন, সেই সঙ্গে ১০হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে ৬মাসের কারাদণ্ড এবং অভিযুক্তের বাবা মোঃ তোরাব আলী ও তার স্ত্রী সখিনা খাতুনকে খালাস দেন।



