নাসিরনগর চাতলপাড় চকবাজার মেঘনার ভাঙনে বিলীনের পথে আতঙ্কে ব্যবসায়ীসহ এলাকাবাসী
সুজিত কুমার চক্রবর্তী,স্টাফ রিপোর্টারঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার ভাটি অঞ্চল নামে খ্যাত চাতলপাড় ইউনিয়নের চকবাজার মেঘনা নদীর তীব্র ভাঙনে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছে এলাকাবাসী । নদীর পাড়ে আরসিসি পাইলিং, রিটেইনিং ওয়াল ও ব্লক না থাকায় টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে বাজারের মাটি ধসে পড়ছে । যেকোনো সময় দোকানঘর নদীগর্ভে তলিয়ে যাবে।

সরেজমিন নাসিরনগর উপজেলা চাতলপাড় চকবাজার গিয়ে দেখা গেছে, মেঘনার তীব্র স্রোতে চকবাজারের বেশ কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ধসে পড়ার হুমকির মুখে। বাজারের মাটি ইতোমধ্যে ভেঙে নদীতে চলে গেছে।
চাতল পাড় চকবাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সুবল শুক্ল দাস জানান, "গত বছর মেঘনার স্রোতে তার একটি দোকান ঘর বিলীন হয়ে গেছে। আবারও নতুন করে ভাঙন শুরু হওয়ায় তার আরেকটি দোকানঘর যেকোনো সময় নদীতে চলে যেতে পারে।তিনি বলেন মেঘনার ভাঙ্গনে আমরা নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছি।
স্থানীয় ব্যবসায়ীসহ এলাকাবাসীরা জানায় , গত ৭ -৮ বছর ধরে চাতলপাড়ের বিভিন্ন গ্রামে নদীভাঙন অব্যাহত আছে । এখন পর্যন্ত স্থায়ী কোনো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ইতোমধ্যে চকবাজার সংলগ্ন , বেশ কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে
চাতলপাড় ইউনিয়নের আয়তন ২৩.৬৩ বর্গকিলোমিটার এবং জনসংখ্যা প্রায় ৪৪,০৮৬ জন। এ ইউনিয়নের পশ্চিম ও উত্তর সীমান্ত দিয়ে বয়ে চলেছে মেঘনা নদী।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান বাবু বিনয় রায় বলেন,দীর্ঘদিন ধরে মেঘনার ভাঙনে ঐতিহ্যবাহী চকবাজারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার কিছু পরিবারের ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়ে গেছে। নদী ভাঙন থেকে এই এলাকাকে রক্ষা করা খুবই জরুরী।নাসিরনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহীনা নাছরীন বলেন, "নদী ভাঙন রোধে স্থানীয় সংসদ সদস্যের সহযোগিতায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।"
মেঘনা নদীর তীব্র স্রোতে নাসিরনগর উপজেলার চাতলপাড় বড়বাজার, চকবাজার ও বিলেরপাড় এলাকার বসতবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে । স্থানীয় বাসিন্দারা চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে নদী শাসন ও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করে এই ভয়াবহ দুর্যোগ থেকে বাঁচতে চায় ।
নদী ভাঙ্গন রোধেন বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় সংসদ সদস্য এম এ হান্নান বলেন, হাওরাঞ্চলের তিনটি ইউনিয়নের মানুষের দুর্ভোগ কমাতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ চলমান রয়েছে।



