বাংলাদেশে পুশইনে বিএসএফকে সহায়তার অভিযোগে ৭ বাংলাদেশি আটক
গোমস্তাপুর প্রতিনিধিঃ চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রোকনপুর সীমান্ত দিয়ে আবারও এক নারীকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চালিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) তাৎক্ষণিক ও দূরদর্শী হস্তক্ষেপে বিএসএফের সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। এদিকে পুশইন কার্যক্রমে সহায়তার অভিযোগে ৭ বাংলাদেশিকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে বিজিবি।

আটককৃতরা সবাই গোমস্তাপুর উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের রোকনপুর গ্রামের বাসিন্দা। তারা হলো- বাবুল আক্তার,এমদাদুল হক,রয়েল,আজম,আলম, আসমাউল ও মেজবাউল।
বিজিবির পক্ষ থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সোমবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে নওগাঁ ১৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ রোকনপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত মেইন পিলার ২২৫/৩-আর এলাকা দিয়ে এই পুশ-ইনের চেষ্টা করা হয়।
ভারতের ৮৮ ব্যাটালিয়ন বিএসএফের আর কে ওয়াদা ক্যাম্পের সদস্যরা কয়েকজন বেসামরিক মাঝির সহায়তায় নৌকাযোগে এক নারীকে জোরপূর্বক বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঠেলে দেয়ার চেষ্টা চালায়। এ সময় সীমান্তে দায়িত্বরত বিজিবি টহল দলের সদস্যরা বিষয়টি টের পেয়ে দ্রুত হস্তক্ষেপ করেন এবং পুশইনের ওই চেষ্টা সফলভাবে প্রতিহত করেন।
বিজিবি আরও জানিয়েছে,বর্তমানে রোকনপুর সীমান্ত পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সার্বক্ষণিক নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার রাখা হয়েছে।

প্রসঙ্গত,রোকনপুর সীমান্ত দিয়ে ভারতের পক্ষ থেকে এটিই প্রথম পুশইনের চেষ্টা নয়। এর আগে গত ১৩ জুন একই সীমান্ত এলাকা দিয়ে ১৫ জন ব্যক্তিকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চালিয়েছিল বিএসএফ। সেবারও বিজিবির শক্ত অবস্থানের কারণে বিএসএফের সেই চেষ্টা প্রতিহত হয় এবং পরবর্তীতে বিএসএফ তাদের ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে বাধ্য হয়।
এদিকে,বিএসএফের এই পুশইন কার্যক্রমে সরাসরি সহায়তা করার অভিযোগে ৭ জন বাংলাদেশিকে আটক করেছে বিজিবি। গোমস্তাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নূরে আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান,বিজিবি সোমবার রাতেই আটককৃতদের থানায় হস্তান্তর করেছে। এই ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।



