নওগাঁয় বিয়ের প্রলোভনে ডেকে নিয়ে হত্যা:২৪ ঘন্টার মধ্যে রহস্য উদঘাটন,গ্রেপ্তার-২
এ.বি.এস রতন স্টাফ রিপোর্টার :নওগাঁ জেলার ধামইরহাট থানার খেলনা গ্রামের মেরিনা বেগম (৪৫) কে নৃশংসভাবে হত্যা করে মরদেহ আগুনে পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায়, হত্যাকাণ্ডে জড়িত ০২ জন আসামী গ্রেফতার ও হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত আলামত উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।
আটক ব্যক্তিরা হলেন- ধামইরহাট উপজেলার আগ্রাদ্বিগুণ ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য মো. বাবুল হোসেন (৪৯) এবং তার সহযোগী মো. তারেক রহমান (২১)।
পুলিশ সুপার জানান, গত ১৮ আগস্ট সন্ধ্যা আনুমানিক ০৭.০০ ঘটিকার সময় ধামইরহাট থানার ২নং আগ্রাদ্বিগুন ইউনিয়নের তালপুকুর মাহমুদপুর গ্রামের একটি আমবাগানের ভিতরে গভীর জঙ্গলের মধ্যে আগুনে পোড়া অজ্ঞাত মহিলা লাশ পাওয়া গেছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে ধামইরহাট থানা ও পত্নীতলা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।
অতঃপর পুরো বিষয়টি পুলিশ গভীরভাবে তদন্ত শুরু করে। তথ্য প্রযুক্তি সহায়তা, স্থানীয় তদন্ত এবং ডাটা বিশ্লেষণ করে পুলিশ কয়েকজনকে সন্দেহ করে। সন্দেহের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে প্রথমে স্থানীয় সাবেক মেম্বার বাবুল হোসেন (৪৯) কে গ্রেফতার করা হয় এবং তাহার তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তীতে অপর আসামী তারেক রহমান (২১) কে গ্রেফতার করা হয়।

অতঃপর বিশেষ টিম তাদের দুইজনকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের পর হত্যাকাণ্ডে তারা দুজনের জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করে। তাদের তথ্যমতে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত আলামত একটি বেল্ট এবং হত্যা পরবর্তী ভিকটিমের অন্যত্র ফেলে দেওয়া জুতার ব্যাগ আসামীদের তথ্য ও দেখানোমতে উদ্ধার করা হয়। বর্নিত আসামীদ্বয় সহ আরও ০২ জন আসামী অত্র হত্যাকান্ডের ঘটনার সহিত জড়িত। এই চারজন মিলে পরিকল্পিতভাবে মেরিনা বেগমকে হত্যা করা হয় এবং তার লাশের পরিচয় নষ্ট করার জন্য পেট্রোল দিয়ে পোড়ানো হয়। গত ইং ১৪/০৮/২০২৬ তারিখ বেলা অনুমান ১১.৩০ ঘটিকার সময় মেরিনা বেগম (৪৫) গরুর জন্য ঘাষ কাটার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়।
পুলিশ সুপার আরও জানায়, আসামী বাবুল হোসেন এর সাথে মেরিনা বেগম এর সম্পর্ক ছিল। মেরিনা এবং আসামী বাবুল হোসেন এর মোবাইল নম্বর আদান প্রদান হয়। তাহাদের মধ্যে মাঝে মধ্যেই মোবাইল ফোনে ফোনে বিভিন্ন ধরনের কথোপকথোন হয় এবং একপর্যায়ে তাহাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। তাদের সম্পর্ক আরও গভীর হইলে মেরিনা বেগম আসামী বাবুল হোসেনকে বিবাহের চাপ দেয়। আসামী বাবুল হোসেন তাকে বিবাহ না করিলে প্রয়োজনে তার বাড়িতে যাবে কিংবা আত্নহত্যা করবে বলে মেরিনা বেগম আসামী বাবুল হোসেনকে সতর্ক করে। এমন কথায় আসামী বাবুল হোসেন জানায় যে, আগামী রবিবার ইং ১৬/০৮/২০২৬ তারিখে তারা বিবাহ করবে।

সেই মোতাবেক মেরিনা বেগম ইং ১৬/০৮/২০২৬ তারিখ দুপুরবেলা বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসে। পরবর্তীতে আসামী বাবুল হোসেন অপর আসামী তারেক রহমান সহ আরও ০২ জনকে মেরিনা বেগমকে নেওয়ার জন্য ৬নং জাহানপুর ইউপির সাহাপুরে পাঠায়। আসামী তারেক সহ অপর ০২ জন আসামী সাহাপুর বাজার থেকে মেরিনাকে আগ্রাদ্বিগুন বাজারে রাত অনুমান ১০.০০ ঘটিকার সময় নিয়ে আসে। সেখানে আসামী বাবুল হোসেন মোটর সাইকেলযোগে আগ্রাদ্বিগুন বাজারে এসে তেলের দোকান থেকে ০৩ (তিন) লিটার পেট্রোল ক্রয় করে। ০২ লিটার পেট্রোল গাড়িতে উঠায় এবং অবশিষ্ট ০১ লিটার পেট্রোল ০১ লিটার বোতলে সংরক্ষন করে একটি বাজার করা ব্যাগের মধ্যে রাখে।
আসামী বাবুল হোসেন সহ অন্যান্য আসামীগন আগ্রাদ্বিগুন বাজার হইতে একত্রিত হইয়া মেরিনা বেগমকে নিয়ে ঘটনাস্থল সংলগ্ন মনিহারী টু তালপুকুর গামী পাকা রাস্তার মাঝামাঝি গিয়ে দাড়ায় এবং মোটর সাইকেল ও অটো রাস্তায় রেখে, রাস্তা হইতে ৩০০ ফিট দক্ষিন দিকে ধামইরহাট থানাধীন ২নং আগ্রাদ্বিগুন ইউপির তালপুকুর মাহমুদপুর গ্রামের জাহানারা এর আমবাগানের ভিতরে নিয়ে যায়। সেখানে গিয়ে আসামীগন একত্রিত হয়ে আসামী তারেক রহমান এর কোমরে থাকা বেল্ট খুলে মেরিনা এর গলায় অপর ০২ জন আসামী ফাঁস দিয়ে চেপে ধরে।

মৃত্যু নিশ্চিত করে আসামী বাবুল হোসেন আলামত নষ্ট করার উদ্দেশ্যে মেরিনা এর শরীরে পেট্রোল ঢেলে দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুনে তার শরীরের অর্ধাংশ পুড়ে যায়।
এ প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন নৃশংস এই হত্যাকাণ্ড এবং লাশ আগুনে পোড়া ক্লুলেস এই মামলার রহস্য পুলিশ ২৪ ঘন্টার মধ্যে উদঘাটন করেছে এবং হত্যাকারী দুইজনকে গ্রেফতার করেছে। নওগাঁ জেলা পুলিশ নওগাঁ জেলায় যে কোন ধরনের অপরাধ আইন অনুযায়ী কঠোর হস্তে দমন করবে এবং সেই সাথে অপরাধ প্রতিরোধে জেলা পুলিশ সর্বাত্মকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।



